| কোড: 284271 | তারিখ: 2011/12/15 | সূত্র: Radio Tehran | print |
গাদ্দাফি হত্যাকাণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জড়িত : ভ্লাদিমির পুতিন |
রেডিও তেহরানের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : লিবিয়ার সাবেক শাসক মুয়াম্মার গাদ্দাফির হত্যাকাণ্ডে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র জড়িত ছিল বলে অভিযোগ করেছেন রাশিয়ার প্রধানমন্ত্রী ভ্লাদিমির পুতিন। বার্ষিক টেলিভিশন ভাষণে পুতিন এ অভিযোগ করেন। তার এ ভাষণে প্রশ্নোত্তর পর্ব ছিল এবং টেলিফোনের মাধ্যমে প্রশ্ন করার সুযোগ রাখা হয়েছিল। এ সময় টুইটের মাধ্যমে মার্কিন সিনেটর ম্যাককেইনের পাঠানো বার্তা সম্পর্কে পুতিনকে প্রশ্ন করা হয়। এ বার্তায় রাশিয়ার প্রতি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে ম্যাককেইন দাবি করেছিলেন, চলতি মাসের ৪ তারিখে অনুষ্ঠিত বিতর্কিত নির্বাচনের কারণে রাশিয়ায় আরব জাগরণের মতো গণআন্দোলন দেখা দেবে। পুতিন এ প্রশ্নের জবাবে বলেন, "ম্যাককেইন ভিয়েতনামে যুদ্ধ করেছেন এবং তার হাতে সাধারণ শান্তিকামী মানুষের রক্ত লেগে আছে। কাজেই ম্যাককেইনের পক্ষে রক্তপাত ছাড়া স্বাভাবিক জীবনযাপন করা সম্ভব নয়।"
গাদ্দাফির হত্যার কথা উল্লেখ করে পুতিন বলেছেন, "মার্কিন পাইলটবিহীন বিমান বা ড্রোনসহ অন্য কয়েকটি ড্রোন থেকে গাদ্দাফির বহরের ওপর হামলা চালানো হয়েছে। এরপর মার্কিন বিশেষ বাহিনীর মাধ্যমে রেডিও সিগন্যাল ব্যবহার করে কথিত বিরোধীদের সেখানে ডেকে হাজির করা হয় এবং কোনো তদন্ত ও বিচার ছাড়াই গাদ্দাফিকে হত্যা করা হয়েছে। তিনি বলেন, বিশেষ বাহিনী হিসেবে পরিচিত মার্কিন কমান্ডো দলের লিবিয়ায় উপস্থিত থাকার কথা না থাকলেও তারা সেখানে উপস্থিত ছিল। লিবিয়া যুদ্ধের সময় পুতিন একে ক্রুসেড বা ধর্মযুদ্ধ বলেও মন্তব্য করেছিলেন।
রুশ নির্বাচন এবং নতুন করে পুতিনের প্রেসিডেন্ট হওয়ার দৌড়ে ফেরা প্রসঙ্গে ম্যাককেইন যে সমালোচনা করে বক্তব্য দিয়েছেন তার জবাবে পুতিন বলেন, রাশিয়ার পরমাণু অস্ত্র এবং স্বতন্ত্র পররাষ্ট্রনীতি অনেকের গাত্রদাহ সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়া, কিছু ব্যক্তি চাইছেন-রাশিয়াকে একঘরে করে রাখতে। বিশ্ব রাজনীতিতে যাতে রাশিয়া অংশ নিতে না পারে সেজন্য তারা এ অপচেষ্টা শুরু করেছেন।
এর আগে, রাশিয়ার বিক্ষোভকারীদের উস্কানি দেয়ার জন্য পুতিন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিন্টনকে দায়ী করেছিলেন। রুশ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভাষণে পুতিন বলেছিলেন,রাশিয়ার নির্বাচনে কারচুপির অভিযোগ এনে হিলারি রুশ বিক্ষোভকারীদের উস্কে দেয়ার চেষ্টা করেছেন এবং মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সমর্থন নিয়ে বিক্ষোভকারীরা তাদের তৎপরতা শুরু করেছে।#