| কোড: 291765 | তারিখ: 2012/01/20 | সূত্র: Abna | print |
আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : সাম্পাঙ্গ অঞ্চলের শিয়াদের দিবা-নৈশ স্কুলে হামলার মাধ্যমে পূনরায় ইসলামি ঐক্যের মুখে সজোরে চপেটাঘাত করা হয়েছে। সত্যই অত্যন্ত দুঃখজনক যে ইন্দোনেশিয়ার নিরাপত্তা বিভাগ এ ধরণের ঘটনার রোধ করতে পারে নি।
যদি স্থানীয় পুলিশ প্রশাসন ও স্থানীয় সরকারের পক্ষ থেকে এ বিষয়ের উপর এবং পূর্বে ঘটে যাওয়ার বিষয়ের উপর গুরুত্ব প্রদান করা হত তবে অবশ্যই শিয়াদের দিবা-নৈশ ঐ স্কুলে হামলা পথরোধ করার কোন ব্যবস্থা গ্রহণ করা সম্ভব হত। কিন্তু দুঃখজনকভাবে এ ক্ষেত্রে কোন পদক্ষেপই গ্রহণ করা হয়নি।
আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার সংবিধানের বিজ্ঞপ্তি বিষয়ক ১৮তম ধারাতে মাযহাবগত স্বাধীনতাকে প্রতিটি মানুষের জন্য একটি মৌলিক অধিকার হিসেবে গন্য করা হয়েছে, যে বিষয়ে অবশ্য সরকার তাকে সমর্থন করবে; সুতরাং প্রতিটি দেশের সরকার এ অধিকার ভঙ্গের বিষয়ে সকল দায়িত্ব নিজ দায়িত্বে গ্রহণ করবে।
সাম্পাঙ্গের দিবা-নৈশ স্কুলে হামলার ঘটনা আমাদেরকে করুন এক ঘটনার কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। যা গতবছর জাভা অঞ্চলের আওতাভূক্ত ‘সিক আওসিক’ এলাকায় ঘটেছিল। উক্ত ঘটনায় ৩ জন শিয়া মুসলিম শাহাদত বরণ করে এবং হামলাকারীরা তাদের মসজিদ (ইবাদতের স্থান) অগ্নিসংযোগ করে। ‘সিক আওসিক’ ট্রাজেডির ন্যায় সাম্পাঙ্গ পুলিশও হামলার ব্যাপারে পূর্ব হতে কোন ধারণাও করতে পারে নি। ধারণা করা হচ্ছে যে, যদি কয়েক ঘন্টা পূর্বেও এ ঘটনার বিষয়ে পুলিশকে অবগত করা হত তবুও সাম্পাঙ্গ পুলিশ এ বিষয়ে কোন পদক্ষেপ নিত না।
স্থানীয় পুলিশ ঘোষণা করেছে যে, সন্ত্রাসীদের একটি দল উক্ত স্কুলের কয়েক শ’ মিটার দূর হতে পুলিশকে স্কুলের নিকটে যেতে বাধা প্রদান করে!
পুলিশের এ দাবী অবশ্য গ্রহণযোগ্য নয়, কেননা একদল সন্ত্রাসী তাদেরকে ঘটনাস্থলে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছিল না। ঐ অবস্থায় পুলিশের উচিত ছিল তাদেরকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতিকে নিজ নিয়ন্ত্রনে নেয়া। এ ক্ষেত্রে পুলিশের গড়িমসির বিষয়টি অতিস্পষ্ট।
ইন্দোনেশিয়াতে আহলে বাইত (আ.) এর মাযহাবের অনুসারীদেরকে সংখ্যালঘু হিসেবে গন্য করা হয়। এমতাবস্থায় সাম্পাঙ্গের ওলামা পরিষদ শিয়াদেরকে পথভ্রষ্ট দল হিসেবে ফতওয়া প্রদান করে শিয়াদেরকে ভয়ংকর পরিস্থিতির মুখে দাঁড় করিয়েছেন। সাম্পাঙ্গের ওলামা পরিষদ উগ্র সালাফিদের চাপে পড়ে ভিত্তিহীন এ ফতওয়া প্রদান করলেও ইন্দোনেশিয়ার ওলামা পরিষদ শিয়া মাযহাবের বিরুদ্ধে এ ধরণের কোন ফতওয়া প্রদান করেনি।
ইন্দোনেশিয়ার ওলামা পরিষদ ঘোষণা করেছে যে, সুন্নি ও শিয়া মাযহাব; ইসলামের দু’টি বৃহৎ ফের্কাহ, যেভাবে ২০০৯ সালে মক্কায় অনুষ্ঠিত ইসলামি কনফ্রান্সে এ বিষয়ের স্বীকৃতি প্রদান করা হয়। এ বিষয়টি হতে প্রমাণিত হয় যে, সাম্পাঙ্গের ওলামা পরিষদ কর্তৃক প্রদত্ত ফতওয়া মাযহাবের নিরাপত্তা বিশেষতঃ ইন্দোনেশিয়ার শিয়াদের নিরাপত্তার জন্য বৃহৎ এক হুমকি স্বরূপ।
ইতিপূর্বে ‘জাভা’র পূর্ব অঞ্চলে বেশ কয়েকবার শিয়াদের উপর হামলা চালানো হয়েছে। যে সকল অঞ্চলে শিয়াদের উপর হামলা চালানো হয়েছে তন্মধ্যে রয়েছে বুন্দুসু, পাসুরাওয়ান, মালাঙ্গ, বাঙ্গিল ইত্যাদি। এ সকল ঘটনা স্থানীয় সরকারসমূহের জন্য সতর্ক সংকেত স্বরূপ, যাতে তারা এ ধরণের হামলার পথরোধ করার জন্য কোন উপায়ের সন্ধান করে বড় ধরণের কোন অঘটন রোধ করতে পারে।
এদিকে উভয় মাযহাবের মাঝে সমঝোতা সৃষ্টি ও ভুলবোঝাবুঝিকে সর্বনিম্নে নামিয়ে আনার লক্ষ্যে শিয়া ও সুন্নি মাযহাবের চিন্তাবিদ ও প্রতিভাবানরা পরস্পরের সাথে আলোচনায় বসেছে। কিন্তু দুঃখজনভাবে এ ধরণের পারস্পারিক অনুধাবন ও সমঝোতার বিষয়টি শুধুমাত্র বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিভাবানদের মাঝে পরিলক্ষিত হয়।
সাম্পাঙ্গে ঘটিত সম্প্রতি ঘটনা হতে প্রমাণিত হয় যে, যদি এ সচেতনতা সাধারণ জনগণের পর্যায়ে পৌঁছানো সম্ভব না হয় এবং এ ধরণে হামলা প্রতিহত করতে ইন্দোনেশিয়া পুলিশ সোচ্চার না হয়, তবে ভবিষ্যতে এদেশে আহলে বাইত (আ.) এর মাযহাবের নির্যাতিত অনুসারীদের উপর আরো বড় বিপদ নেমে আসতে পারে।
বলাবাহুল্য, চলতি বছরের মহররম মাসে এদেশের ‘সাম্পাঙ্গ’ অঞ্চলের –যা ‘মাদুরাহ’ দ্বীপে অবস্থিত- শিয়াদের উপর উগ্র সালাফিদের হামলা লক্ষ্যজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। এমনভাবে যে, উক্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদের মনে ব্যাপক ভয় ও ত্রাসের জন্ম নিয়েছে।
এ ধরণের সহিংস হামলা ও নির্যাতন উগ্র সালাফিদের কর্তৃক পরিচালিত হচ্ছে। তারা এ ক্ষেত্রে কখনও উক্ত অঞ্চলের বাসিন্দাদেরকে হুমকি দিচ্ছে, আবার কখনও তাদের বাড়ীঘর ও স্কুলে আগুন লাগিয়ে দিচ্ছে।
এ অঞ্চলের প্রখ্যাত শিয়া আলেম ‘শেইখ তাজুল মুলুক’ বেশ কয়েকবার উগ্র সালাফিদের হুমকির সম্মুখীন হয়েছেন। উগ্র সালাফিরা তার বাসগৃহ ও তার কর্মক্ষেত্রে হামলা চালিয়ে সেখানে অগ্নিসংযোগ করার পর তাকে উক্ত স্থান হতে বের করে দিয়েছে।
জনাব শেইখ তাজুল মুলুক চলতি বছর মহররম মাসের দিনগুলোতে উগ্র সালাফিদের সহিংস পদক্ষেপসমূহের কথা উল্লেখ করতে গিয়ে বলেন : প্রতিবছরই এ অঞ্চলের শিয়ারা মহররম মাসে ইমাম হুসাইন (আ.) এর স্মরণে শোক অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকে। এ বছর উগ্র সালাফিরা বিক্ষোভ মিছিল করে শোক অনুষ্ঠান বন্ধের দাবী জানায়।
তিনি বলেন : সালাফিদের এ দলটি শুধুমাত্র বিক্ষোভ করেই ক্ষান্ত হয়নি। যে সকল শিয়ারা শোক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করতে চাইতো তাদেরকে তাদের বাড়ী ও এলাকা হতে বের করে দেয়ার হুমকি দেয়। যখন তারা এ ক্ষেত্রে শিয়াদের না সূচক জবাবের মুখোমুখি হয় তখন তারা রাতের আঁধারে বেশ কয়েকজন শিয়ার বাড়ীতে অগ্নিসংযোগ করে।
শেইখ তাজুল মুলুক ইন্দোনেশিয়ার সাম্পাঙ্গ অঞ্চলের শিয়াদের জীবন-যাপন পরিস্থিতি সম্পর্কে জানান : শিয়ারা বর্তমানে অবরোধের মাঝে শ্বাসরুদ্ধকর অবস্থার মাঝে দিনাতিপাত করছে এবং তাদের অধিকাংশই আর্থিকভাবে দূর্বল ও দরিদ্র।
বলাবাহুল্য, সাম্পাঙ্গ অঞ্চলে ৩ শতাধিক শিয়ার বসবাস। উগ্র সালাফিদের হুমকির মুখে পড়ে তাদের অনেকেই বর্তমানে শহর ত্যাগ করে জঙ্গলে আশ্রয় নিয়েছে।#