| কোড: 317031 | তারিখ: 2012/05/23 - 11:26 | সূত্র: আবনা | print |
-সৌদি আরবের ক্ষমতার লোভের বিরোধিতায় মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন জাতি
দেশের জনগণের মতামত গ্রহণ ব্যতীত দেশের শাসন ক্ষমতা বা দেশের একটি অংশকে অন্যের হাতে তুলে দেওয়া বৈধ নয় –এ কথা উল্লেখ করে কুয়েত পার্লামেন্টের এক সদস্য বলেছেন : মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ বাহরাইনের সাথে একীভূত হওয়ার বিষয়ে সৌদি আরবের ক্ষমতালিপ্সুতার বিরোধী।
আব্দুল হামিদ দাশতি বলেন : মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি এবং আরব বিশ্বে আগত বসন্ত হতে সৌদি আরব সন্ত্রস্ত। আর এ পর্যায়টি অতিক্রম করতে অবশ্যই তাদেরকে তাদের নীতি পরিবর্তন করতে হবে এবং নিজের মাঝে পরিবর্তন আনতে হবে। পাশাপাশি নিজের দেশের জনগণকে স্বাধীনতা দিতে হবে এবং বাহরাইন ও কুয়েতের বিষয়ে হস্তক্ষেপ করা হতে বিরত থাকতে হবে।
কুয়েত পার্লামেন্টের সদস্য বলেন : সৌদি আরবের উচিত সংশোধনের বিষয়টি দেশের অভ্যন্তর হতে শুরু করা, কেননা এদেশে ঐক্য সৃষ্টির বিষয়টি লাগাম ছেঁড়া চিন্তার ন্যায়।
পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহকে একীভূত হওয়ার পরিবেশ এখনও সৃষ্টি হয়নি –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ গঠনের কয়েক বছর পার হওয়ার পরও এখনো পর্যাপ্ত পরিমাণে সক্রিয় হতে পারেনি যে, তারা জনগণের চাহিদাকে পূরণ করবে।
জনাব দাশতি বলেন : সৌদি আরব তার প্রতিবেশী প্রতিটি দেশে পরিবর্তন আনার চেষ্টায় রয়েছে, কিন্তু নিজে পরিবর্তন হতে চায় না। আর পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশসমূহ তাদের দেশের জনগণের মতামতের প্রতি বিন্দু পরিমাণে ভ্রুক্ষেপ না করে নিজের দেশকে অন্য দেশের সাথে একীভূত করার নীল-নকশা আঁটছে।
তিনি বলেন : একীভূত হওয়ার কথা তখন বলা উচিত হবে যখন পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহ গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হবে এবং এ সকল দেশের সংবিধানসমূহ, গণতন্ত্র ও স্বাধীনতার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করা হবে, পাশাপাশি জাতীয় সংসদে জনগণের প্রকৃত প্রতিনিধিরা অবস্থান করবেন।
বাহরাইন ও সৌদি আরবের একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা হতে কোন ফল পাওয়া সম্ভব নয়
আরব এক বিশ্লেষক ও লেখক, মধ্যপ্রাচ্যে সৌদি আরবের অনাকাঙ্খিত পরিস্থিতির প্রতি ইঙ্গিত করে বলেছেন যে, সৌদি আরব ও বাহরাইনের একীভূত হওয়ার পরিকল্পনা ব্যর্থ হয়েছে এবং এ হতে কোন ফলাফল লাভ করা সম্ভব নয়।
বিশিষ্ট আরব লেখক ও গবেষক ‘আব্দুল বারী আতওয়ান’, ‘আল-কুদস আল-আরাবী’তে প্রকাশিত তার এক প্রবন্ধে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশসমূহের একীভূত হওয়া ও সৌদি আরবের পরিস্থিতির উপর পর্যালোচনা করেছেন।
এ লেখক লিখেছেন : পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদ গঠনের ৩০ বছর পার হওয়ার পর এর চেহারা দ্রুত আগত বাদ্ধক্যের চিহ্ন ফুটে উঠেছে। এ পরিষদের উপর সৌদি আরবের কর্তৃত্ব, কিছু কিছু দেশ কর্তৃক সৌদি আরবের বিরোধিতা করার কারণে পর্যায়ক্রমিকভাবে ফিকে হয়ে আসছে। সৌদি আরব বিগত কয়েক বছরে এ পর্যন্ত পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদে ৩টি প্রস্তাবনা পেশ করেছে যার ৩টিই ব্যর্থ হয়েছে।
সৌদি আরব প্রথমে পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের সদস্য দেশসমূহের মাঝে এক মুদ্রা চালুর প্রস্তাবনা পেশ করে। যে প্রস্তাবনার বিরোধিতা করেছিল সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। এ প্রস্তাবনার ভিত্তিতে সেন্ট্রাল ব্যাংকের প্রধান ভবন স্থায়ীভাবে কোথায় নির্মিত হবে এ বিষয়ে সৌদি আরবের সাথে মতদৈততার সৃষ্টি হয় সংযুক্ত আরব আমিরাতের। এক্ষেত্রে কুয়েতের অবস্থানও ছিল অস্পষ্ট।
সৌদি আরবের দ্বিতীয় প্রস্তাবও ব্যর্থ হয়। দ্বিতীয় বার সৌদি আরব, পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদে জর্ডান ও মরক্কোর সংযুক্ত হওয়ার প্রস্তাব পেশ করে। এবার এ পরিষদের কোন সদস্যই সৌদি আরবের এ প্রস্তাবনার প্রতি সমর্থন জানায়নি। এক্ষেত্রে জর্ডান ও মরক্কোকে নিরাপত্তা হীনতার কারণে জনগণের ক্ষতিপূরণ বাবদ ৫ বিলিয়ন ডলার প্রদান করা হয়।
সৌদি আরব হঠাৎ তৃতীয় যে, প্রস্তাবটি পেশ করে সেটা হচ্ছে পারস্য উপসাগরীয় দেশসমূহে মাঝে সহযোগিতার স্থলে এ সকল দেশের একীভূত করণের প্রস্তাব। এ বিষয়ে প্রকাশিত সংবাদের ভিত্তিতে জানা যায় যে, সম্ভবত সৌদি আরব ও বাহরাইনের একীভূত হওয়ার বিষয়টি এ প্রকল্পের সূচনা হিসেবে রিয়াদে অনুষ্ঠিত পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের নেতাদের বৈঠকে ঘোষণা করা হবে। কিন্তু সৌদি আরবের এ প্রস্তাবনাও ওম্মান, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের তীব্র বিরোধিতার মুখোমুখি হয়। কারণ হিসেবে উল্লেখ করা হয় যে, এ প্রস্তাবনাকে মৌলিকভাবে পর্যালোচনা করতে হবে।
সৌদি আরবের সকল প্রস্তাবনা ব্যর্থ হওয়ার সাথে সাথে এ পরিষদের মাঝে সৌদি আরবের যে কর্তৃত্ব ছিল তা ব্যাপকভাবে হ্রাস পাওয়ার সাথে আরব বিশ্বে সৌদি আরব আরো একটি বৃহৎ ব্যর্থতার শিকার হয়, কেননা ইরাক ও সিরিয়ার সাথে সৌদি আরবের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি ঘটে।
সিরিয়ায় বিশৃংখলা সৃষ্টি অভিযোগে সৌদি আরব অভিযুক্ত। এমনকি সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ রাশিয়া-২৪ টিভি চ্যানেলকে দেওয়া এক সাক্ষাতকারে উপহাসব্যাঞ্জক ভাষায় বলেছিলেন সিরিয়া, সৌদি আরব নিকট হতে গণতন্ত্র বিষয়ক শিক্ষা নিতে চায় না।
এছাড়া মিশরের সাথেও সৌদি আরবের সম্পর্কের ব্যাপক অবনতি হয়েছে, কেননা মিশরের অধিকাংশ জনগণ সৌদি আরবকে সাবেক স্বৈরাচারী সরকার ও অবশিষ্ট দোসরদেরকে সহযোগিতা করার বিষয়ে অভিযুক্ত করে।
তিউনিশিয়ার সাথে দেশটির সম্পর্কের অবনতি ঘটেছে। কেননা রিয়াদ, তিউনিশিয়ার সাবেক স্বৈরাচারী সরকারের প্রেসিডেন্ট যায়নুল আবেদীন বিন আলী’র পাশে শেষ মুহূর্ত অবধি অবস্থান করেছিল এবং বিপ্লবের পর বিন আলীকে আশ্রয় দিয়েছে।
রিয়াদের সাথে ইয়েমেনের সম্পর্কও একই কারণে ঘোলাটে এবং এদেশের জনগণ আলে সৌদকে অভিযুক্ত করেছে যে, এদেশের সাধারণ জনগণ হত্যায় স্বৈরাচারী প্রেসিডেন্ট আলী আব্দুল্লাহ সালেহ’র প্রতি সমর্থন দিয়েছে সৌদি আরব।
আলে সৌদ বুঝতে পেরেছে যে, বাহরাইনে স্বৈরাচারী শাসকের উপস্থিতির বিষয়টি বিরাট হুমকির সম্মুখীন। আর এ কারণেই তারা এ চিন্তা করেছে যে, এ অবস্থা হতে বের হওয়ার একমাত্র উপায় হচ্ছে বাহরাইন ও সৌদি আরবের একীভূত হওয়া। যাতে সরকার বিরোধীদেরকে বিনা বাধায় দমন করতে পারে। সৌদি আরব বাহরাইনের সাথে একীভূত হওয়ার বিষয়টি উত্থাপন করলেও ইতিপূর্বে সাম্প্রদায়িক বিষয়ে মিশর ও সিরিয়ার একীভূত হওয়ার বিরোধিতা করেছিল।
পারস্য উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের দেশসমূহের একীভূত হওয়ার ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়টি হচ্ছে এ বিষয়ের ক্ষেত্র প্রস্তুত হওয়া। এ ধরণের ঐক্যের ঘোষণার ক্ষেত্রে গণতান্ত্র, স্বাধীনতা, রাজনৈতিক তত্পরতার ক্ষেত্রে স্বাধীনতা এবং সমঅধিকারের বিষয়টি সবার আগে প্রাধান্য পায় এবং এ সকল পূর্বশর্তের মধ্যেই কোনটিই বর্তমানে বিদ্যমান নেই।
নিঃসন্দেহে বাহরাইনের জনগণ সৌদি আরবের সাথে এদেশের একীভূত হওয়ার বিষয়ে রাজি নয়; কেননা সৌদি আরবে এমনকি নারীদেরকে গাড়ী চালানোরও অনুমতি পর্যন্ত দেওয়া হয় না। এছাড়া জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ, দল গঠন বা শান্তিপূর্ণ মিছিল আয়োজনের মত ক্ষুদ্রতম রাজনৈতিক তত্পরতার অধিকারও এদেশের জনগণকে প্রদান করা হয় না।
-সৌদি আরবের বাদশাহ’র পরিকল্পনার আনুষ্ঠানিক প্রতিবাদ জানিয়েছে কুয়েত
কুয়েতের জনৈক সংসদ সদস্য, সৌদি আরবের বাদশাহ’র প্রস্তাবনার বিষয়টিকে পর্যালোচনার লক্ষ্যে বিলম্বিত করার বিষয়কে স্বাগত জানিয়েছে বলেছেন : নিরাপত্তা বিষয়ক এ চুক্তি, মধ্যপ্রাচ্যে মানবিক মূল্যবোধ ও বাক স্বাধীনতাকে ধ্বংস করে দেবে।
সহযোগিতা পরিষদের মহাসচিব ‘আব্দুল লাতিফ আল-যিয়ানী’র, একীভূত হওয়ার বিষয়ে পরিষদের সদস্য দেশসমূহের মন্ত্রীদের প্রাথমিক ঐক্যমত্যে পৌঁছা শীর্ষক দাবীর নিন্দা জানিয়ে তিনি বলেন : সহযোগিতা পরিষদের মহাসচিব কোন পরিকল্পনা ও চুক্তির বিষয়ে কথা বলছেন?!
জনাব সা’দুন বলেন : এ চুক্তির উত্থাপনের বিষয়টির উপর বর্তমানে পর্যালোচনা চলছে এবং এর কয়েকটি ধারার বিষয়ে এখনো দ্বিমত রয়েছে, আর এ একটি প্রস্তাবনা বৈ কিছুই নয়।
-জেদ্দাহ বন্দরে মার্কিন রনতরী
আল-আলাম জানিয়েছে যে, লোহিত সাগরে অবস্থিত সৌদি আরবের জেদ্দাহ বন্দরে মার্কিন রনতরী প্রবেশ করেছে।
মিডল ইস্ট অনলাইন লিখেছে : সৌদি কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে কোন প্রকার তথ্য দিতে অস্বীকার করছে। কিন্তু এদেশের সামরিক ও গোয়েন্দা সূত্র এ তথ্য ফাঁশ করেছে যে, মার্কিন রনতরী নীল-খাকি রঙয়ের uss iwo jima জেদ্দা বন্দরে ভিড়েছে।
ইংরেজী ভাষায় প্রকাশিত আরাব নিউজ গত শুক্রবার প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, সৌদি আরবের নৌবাহিনীর প্রশিক্ষণ কাজে সহযোগিতা করবে মার্কিন নেভি এবং মার্কিন নৌবাহিনী’র প্রধান কার্যালয় এ খবরটি ফেইসবুকে উল্লেখ করেছে।
সমুদ্র বিষয়ে প্রকাশিত মার্কিন পত্রিকা ম্যারিন লিংক এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করেছে যে, উল্লেখিত তরীতে মার্কিন নৌবাহিনী’র ১০০০ হাজার সশস্ত্র সৈন্য রয়েছে।
ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদের সাথে সম্পৃক্ত ওয়েব সাইট ‘দেবকা’ ইসরাইলের সামরিক ও গোয়েন্দা সূত্রের বরাত দিয়ে উল্লেখ করেছে যে, গত মঙ্গলবার uss iwo jima জেদ্দা বন্দরে প্রবেশ করেছে। প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ হচ্ছে লোহিত সাগরে সৌদি আরবের রনতরী সমূহের মূল ঘাঁটি, যাতে ২২০০ ম্যারিন সৈন্য অবস্থান করছে।
এ ওয়েব সাইটের বরাত দিয়ে জানা গেছে যে, ২১ বছর পূর্ব হতে অর্থাৎ ১৯৯১ সালে পারস্য উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় হতে এ পর্যন্ত সৌদি আরব প্রথমবারের মত এত পরিমাণে মার্কিন নৌ ও বিমান বাহিনী’র সৈন্যদেরকে সৌদি ঘাঁটিতে নোঙর ফেলা, সৈকতে প্রবেশ এবং প্রকাশ্যে সৌদি আরব অভ্যন্তরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক উপস্থিতির অনুমতি দিল।
জেদ্দা বিমানবন্দরে তখন মার্কিন রনতরী প্রবেশ করলো যখন যুক্তরাষ্ট্র, সৌদি আরব ও বাহরাইনের সহযোগিতায় মধ্যপ্রাচ্যে বিশৃংখল পরিবেশ সৃষ্টি করে ইরানভীতির বৃদ্ধি করার অপচেষ্টা চালাচ্ছে।
-জাতিসমূহের সংকল্পের কঠিন তুফান রিয়াদকেও অতি শীঘ্রই গ্রাস করতে যাচ্ছে
বাহরাইনের স্বাধীনতাকামী দলের সভাপতি বলেছেন : বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ বুঝতে পেরেছে যে, যে সকল নীল-নকশা বাহরাইনের বিপ্লবের বিরুদ্ধে আঁকা হচ্ছে তার নেপথ্যে রয়েছে সৌদি আরব।
জনাব সাঈদ শাহাবী বলেন : বর্তমানে সৌদি আরব, মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন বিপ্লব ও জাতির দ্বারা পরিবেষ্ঠিত হয়েছে এবং আরব বিশ্ব এ বিষয়টিকে অনুভব করছে। সুতরাং জাতিসমূহের দৃঢ় সংকল্পের তুফান অতি শীঘ্রই রিয়াদকেও গ্রাস করতে যাচ্ছে।
তিনি বলেন : বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ বুঝতে পেরেছে যে, যে সকল ষড়যন্ত্র বাহরাইনের বিপ্লবের বিরুদ্ধে আঁকা হচ্ছে তার নেপথ্যে রয়েছে সৌদি আরব এবং যুক্তরাষ্ট্র তাদেরকে রাজনৈতিক ও নিরাপত্তার দিক হতে পৃষ্ঠপোষকতা করছে।
তিনি আরো বলেন : যদি সৌদি আরব না থাকে তবে ইসরাইল সরাসরি জনতার মুখোমুখি হবে, যারা নিজেদের ভবিষ্যদকে নিজেরাই নির্ধারণ করবে।
মধ্যপ্রাচ্যের সকল জাতি, দখলকৃত সকল ভূখণ্ডের মুক্তির দাবী জানায় –এ কথা উল্লেখ করে জনাব সাঈদ শাহাবী বলেন : আরব ও ইসলামি সমাজের উপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে পশ্চিমা বিশ্বের বিভিন্ন কূটকৌশল বাস্তবায়নে সৌদি আরব মধ্যপ্রাচ্যে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। আরব দেশসমূহের গণবিপ্লব দমনে নিজের সকল প্রকার উপকরণ ব্যবহার করছে সৌদি আরব।
তিনি বলেন : আলে সৌদ বাহরাইনে শক্তি ও অস্ত্রের জোরে মাঠে প্রবেশ করেছে এবং মিশর, ইয়েমেন এমনকি সিরিয়ার বিষয়ে সৌদি আরব ও যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ গণবিপ্লবকে গৃহযুদ্ধে রূপান্তরিত করেছে।
-চিকিত্সার জন্য সৌদি যুবরাজের পূনরায় বিদেশ সফর
সৌদি যুবরাজ চিকিত্সার জন্য পূনরায় বিদেশ সফরে যাচ্ছেন।
সৌদি আরবের প্রখ্যাত ফেইসবুক ইউজার, যিনি সৌদি রাজ পরিবারের বিভিন্ন গোপন তথ্য প্রকাশের পর ‘মুজতাহিদ’ নামে খ্যাতি লাভ করেছেন, তিনি ঘোষণা করেছেন : নায়েফ আগামী কয়েকদিনের মধ্যেই চিকিত্সার জন্য জেনেভা সফরে যাচ্ছে।
‘মুজতাহিদে’র বরাত দিয়ে ‘ওয়াতান’ ওয়েব সাইট লিখেছে যে, নায়েফের কর্মসূচীতে এ সফর উল্লেখ ছিল না এবং তিনি ২ মাসেরও কম সময় পূর্বে চিকিত্সা শেষে যুক্তরাষ্ট্র হতে ফিরে এসেছেন এবং পূনরায় বিদেশ সফরের কোন ইচ্ছা তার ছিল না... কিন্তু কোমরের ব্যাথ্যায তিনি এতটাই কষ্ট পাচ্ছেন যে, চলাফেরা করতে তার সমস্যা হচ্ছে।
মুজতাহিদের বর্ণনামতে নায়েফ পূর্বের তুলনায় একটি দীর্ঘ সফরে সৌদি আরব ত্যাগ করছেন। কেননা তাকে এ সফরে চিকিত্সার জন্য অপারেশন করা হতে পারে।
মুজতাহিদ আরো লিখেছে যে, নায়েফের সফরের কারণ সৌদ বাদশাহ’র মরক্কো সফর রমজান মাসের পর নির্ধারিত হয়েছে।
তিনি বলেন : সৌদি আরবের বাদশাহ ও যুবরাজ শুধুমাত্র নিজেদের সুস্থ্যতা নিয়েই ব্যস্ত এবং পরিস্থিতি পরিবর্তনে জনগণের দাবীর প্রতি কোন ভ্রুক্ষেপ করেননা।
উল্লেখ্য, মুজতাহিদ এ পর্যন্ত ফেইসবুকের মাধ্যমে সৌদি আরবের রাজ পরিবারের বিরুদ্ধে অনেক তথ্য প্রকাশ করেছেন। তার এ সকল তথ্যের সুক্ষ্ণতা এতই বেশী যে, কেউ কেউ মনে করছেন তিনি স্বয়ং রাজ পরিবারের একজন সদস্য এবং এদেশে বিদ্যমান পরিস্থিতিতে মোটেও সন্তুষ্ট নয়।#