| কোড: 317358 | তারিখ: 2012/05/24 - 16:16 | সূত্র: পাক্ষিক ফজর | print |
যশোরে হযরত ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) এর পবিত্র জন্মবার্ষিকী পালিত |
আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : যশোর জেলায় ২০শে জামাদিউস সানী হযরত ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) এর পবিত্র জন্মবার্ষিকীর অনুষ্ঠানকে কেন্দ্র করে যশোর জিলা স্কুল অডিটোরিয়ামে ১২ই মে রোজ শনিবার ইনকিলাবে মাহদী মিশনের ১৯ তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উদ্যাপিত হয়েছে। ইনকিলাবে মাহ্দী মিশনের প্রতিষ্ঠাতা জনাব মল্লিক আব্দুর রউফ সাহেবের সভাপতিত্বে বক্তব্য রাখেন যশোর পৌরসভার মেয়র জনাব মারুফুল ইসলাম মারুফ। বিশেষ অতিথি ও প্রধান বক্তা হিসেব বক্তব্য রাখেন ইসলামি শিক্ষা কেন্দ্রের অধ্যক্ষ হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী। অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ হাবিব রেজা, হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ রেজা আলী যায়দী এবং জনাব এনামূল প্রমুখ। ইনকিলাবে মাহদী মিশনের পরিচিতি পাঠ করেন উক্ত অনুষ্ঠান উদযাপন কমিটির আহবায়ক মোঃ সিরাজুল ইসলাম। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সাহিদুল ইসলাম বাবু। অনুষ্ঠানের প্রথম অধিবেশনে ছোটদের হামদ-নাত, কবিতা আবৃতি ও গজল পরিবেশন করা হয়।
বর্তমান বিশ্বে নারীদের অধিকার আদায়ের জন্য তাদের সম্মান ও মর্যাদা পবিত্রতার সাথে সমুন্নত করার ক্ষেত্রে হযরত ফাতেমা যাহরা (সা.) এর জীবন আদর্শকে অনুসরণ করা ছাড়া বিকল্প কোন পথ নেই। এই মহিয়ষী নারীর সম্মানে ইমাম খোমেনী (রহ.) ২০শে জামাদিউস সানীকে ‘বিশ্ব নারী দিবস’ হিসেবে পালনের জন্য সকলের প্রতি আহবান জানিয়েছেন। প্রধান বক্তা হুজ্জাতুল ইসলাম সাইয়্যেদ ইব্রাহীম খলিল রাজাভী সাহেব হযরত ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) এর মর্যাদা সম্পর্কে বোঝানোর লক্ষ্যে উপমা পেশ করেন এই ভাবে যে, পানি যেমন পাক ও পবিত্র তেমনি দুধও পাক ও পবিত্র। কিন্তু দুধ শুধু নিজেই পাক করে, দুধ দ্বারা অন্যকে পবিত্র করা যায় না। কিন্তু পানি নিজে পাক এবং এর দ্বারা অন্যকেও পবিত্র করা সম্ভব; ঠিক তেমনিভাবে পাক পাঞ্জাতন বা নবী পরিবার এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে এ রকমই পার্থক্য বিদ্যমান। আমরা সাধারণ মানুষ পাক পাঞ্জাতনের মাধ্যমে পবিত্র হতে পারি। একমাত্র তাঁদের মাধ্যমেই আত্মার পবিত্রতা অর্জন করা সম্ভব। এই মর্যাদা এবং ক্ষমতা মহান আল্লাহ তাঁদেরকে দান করেছেন।
হযরত ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) এর মাধ্যমেই হযরত মুহাম্মাদ (স.) এর বংশধারা অর্থাৎ ইমামতের ধারা চালু রয়েছে। এই বংশের ধারার কারণেই আজও আমরা সত্যের সাথে রয়েছি। এই বংশ ধারার শেষ ইমাম আমাদের সকলের অভিভাবক ইমাম মাহদী (আ.) এর দ্রুত আবির্ভাবের মাধ্যমেই সারা বিশ্ব শান্তিময় হয়ে উঠবে। এখন থেকেই ইমামের আগমনের জন্য আমাদের যা করণীয় বা আমাদের উপর তাদের পক্ষ থেকে যে দায়িত্বের নমুনা পেশ করা হয়েছে আমরা প্রত্যেকেই নিজ নিজ দায়িত্ব সম্পাদনের প্রচেষ্টার মাধ্যমে এই বিশ্ব ব্যবস্থাপনাকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। উপরোক্ত বক্তব্য বিভিন্ন বক্তাগণের মুখে ফুটে উঠেছে।
উল্লেখ্য, ২০শে জামাদিউস সানী ইসলামি বিপ্লবের মহান স্থপতি হযরত আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনী (রহ.)ও হযরত ফাতেমা যাহরা (সা. আ.) এর পবিত্র বংশধারায় এই পৃথিবীতে আগমন করেন।