| কোড: 317891 | তারিখ: 2012/05/27 - 05:12 | সূত্র: রেডিও তেহরান | print |
ইসরাইলের যুদ্ধকামী মানসিকতা বিশ্ব শান্তিকে বিপদাপন্ন করছে : ইরান |
বার্তা সংস্থা আবনা : ইসরাইলি কর্মকর্তারা ইরানে হামলার হুমকি দিয়ে যে সব বক্তব্য দিচ্ছেন- তা বিশ্ব শান্তিকে বিপদাপন্ন করছে বলে তেহরান অভিযোগ করেছে। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের স্থায়ী প্রতিনিধি মোহাম্মাদ খাজায়ি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর কাছে পাঠানো এক চিঠিতে এ অভিযোগ করেন। তিনি বলেন, ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী ইহুদ বারাকসহ দেশটির অন্যান্য কর্মকর্তারা ইরানের সামরিক স্থাপনায় হামলা চালানোর যে হুমকি দিচ্ছেন তা উস্কানিমূলক, অবৈধ, আন্তর্জাতিক আইন পরিপন্থী এবং নিন্দনীয়। মোহাম্মাদ খাজায়ি বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠার যে চেষ্টা চলছে- এ ধরনের যুদ্ধকামী বক্তব্যে তা ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তিনি বলেন, জবরদখল, গণহত্যা ও মানবতার বিরুদ্ধে অপরাধের মাধ্যমে যে ইসরাইলের জন্ম হয়েছে তার মুখে ইরানের শান্তিপূর্ণ পরমাণু কর্মসূচি নিয়ে প্রশ্ন তোলা মানায় না। তিনি পাল্টা অভিযোগ তুলে বলেন, একমাত্র ইসরাইলের পরমাণু অস্ত্রের ভাণ্ডার মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতাকে হুমকিগ্রস্ত করে তুলেছে।
জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত তার চিঠিতে আরো বলেন, ইসলামী প্রজাতন্ত্র ইরান পরমাণু অস্ত্রসহ সব ধরনের গণ-বিধ্বংসী অস্ত্র তৈরি, সংরক্ষণ ও ব্যবহারের বিরোধী। এ ছাড়া, ইরানের প্রতিরক্ষা নীতিতে গণ-বিধ্বংসী অস্ত্রের কোন স্থান নেই। তিনি বলেন, ইরান ১৯৭৪ সাল থেকে পরমাণু অস্ত্রমুক্ত মধ্যপ্রাচ্য গড়ে তোলার দাবি জানিয়ে এসেছে।
মোহাম্মাদ খাজায়ি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের সদস্য দেশগুলোর কাছে লেখা চিঠিতে বলেন, ইরান এ পর্যন্ত বিশ্বের কোন দেশের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করেনি এবং ভবিষ্যতেও করবে না। তবে জাতিসংঘ ঘোষণার ৫১ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী আত্মরক্ষার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেয়ার অধিকার তেহরান সংরক্ষণ করছে।
ইসরাইলি যুদ্ধমন্ত্রী ইহুদ বারাক গত ২২ মে বলেছেন, ইরানের পরমাণু স্থাপনাগুলোর ওপর সামরিক হামলার সম্ভাবনা নাকচ করে দেয়া হয়নি। তিনি আরো বলেন, কোন অবস্থায়ই পরমাণু শক্তিধর ইরানকে মেনে নেয়া হবে না।
ইসরাইল, আমেরিকা ও তাদের পশ্চিমা মিত্র দেশগুলো অভিযোগ করছে, ইরান পরমাণু অস্ত্র তৈরির চেষ্টা করছে। তবে ইরান ওই অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে বলেছে, এনপিটি চুক্তিতে স্বাক্ষরকারী দেশ হিসেবে শান্তিপূর্ণ কাজে পরমাণু প্রযুক্তি ব্যবহারের অধিকার তেহরানের রয়েছে।#
(সূত্র : রেডিও তেহরান)