জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য (বিস্তারিত)
কোড: 267424 তারিখ: 2011/09/23সূত্র: Abnaprint

জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য (বিস্তারিত)

স্বাধীনতা, মুক্তিকামীতা, স্থানীয় নিরাপত্তা, অত্যাচার-ফাসাদ ও বৈষম্যতার বিরোধিতা এবং নির্যাতিতদের সাহায্য ঐশী স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত; যার প্রতি আল্লাহর নবীগণ (আ.) আহবান জানিয়েছেন। / বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ জনগণ বিশ্বের মোট উপার্জনের শতকরা ৫ ভাগ এবং শতকরা ২০ ভাগ জনগণ মোট উপার্জনের শতকরা ৭৫ ভাগের অধিকারী। প্রতিদিন ২০ হাজার শিশু দারিদ্রতার কারণে মৃত্যু বরণ করছে। ... 

 জাতিসংঘে ইরানের প্রেসিডেন্টের বক্তব্য (বিস্তারিত)

 বিশ্বের শক্তিধরদের নিকট শুধুমাত্র তাদের শক্তি ও সম্পদই গুরুত্বপূর্ণ, তাদের সম্মুখে দূর্বল জাতিগুলোর কোন আশা গুরুত্ববহ নয়। / ইমাম মাহদী (আ. ফা); মানবজাতির ত্রাণকর্তা ও পরিপূর্ণ মানব। তিনি হযরত ঈসা (আ.) এর সহযোগিতায় পৃথিবী হতে অত্যাচার ও বৈষম্যতাকে দূর করে জ্ঞান, স্বাধীনতা ও ভালবাসাকে পৃথিবীর বুকে সম্প্রসারিত করবেন এবং মানব জাতিকে জীবনের মিষ্ট স্বাদ গ্রহণ করাবেন। / ‘সালাম হোক ভালবাসা ও স্বাধীনতার উপর, সালাম হোক মানব জাতির আলোকিত ভবিষ্যতের প্রতি’।

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট: ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রেসিডেন্ট গতকাল রাতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের বাত্সরিক অধিবেশনে দেয়া ভাষণে উপনিবেশিক শক্তিগুলোর তীব্র সমালোচনা করেছেন।

তিনি তার বক্তৃতার শুরুতে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের নতুন প্রধানের প্রতি অভিনন্দন ব্যক্ত করে, পাকিস্তান ও জাপানে সাম্প্রতিক প্রাকৃতিক দূর্যোগের বিষয়ে সমবেদনা জ্ঞাপন করে দূর্যোগ আক্রান্ত দেশসমূহের প্রতি সাহায্য অব্যাহত রাখার জন্য বিশ্ববাসীর প্রতি আহবান জানান।

তিনি বলেন : স্বাধীনতা ও মুক্তিকামিতা, সকলের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা, অত্যাচার ও ফাসাদকে প্রত্যাখান করা এবং নির্যাতিতদেরকে সহযোগিতা করা ঐশী স্বভাবের অন্তর্ভুক্ত। তিনি বলেন, আল্লাহর সকল নবী (আলাইহিমুস সালাম) গণ এর প্রতি জনগণকে আহবান জানিয়েছেন।

বিশ্বের মোট জনসংখ্যার শতকরা ৪০ ভাগ জনগণ বিশ্বের মোট উপার্জনের শতকরা ৫ ভাগ এবং শতকরা ২০ ভাগ জনগণ মোট উপার্জনের শতকরা ৭৫ ভাগের অধিকারী। প্রতিদিন অভাবের কারণে বিশ্বে ২০ হাজার শিশুর মৃত্যু ঘটে –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ গঠনসহ –যা স্বাধীনতাকামী মানুষের প্রচেষ্টার ফলে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে- ঐতিহাসিক বিভিন্ন অর্জন সত্ত্বেও যুদ্ধ, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংকট, স্বার্থপরতা এবং নিরাপত্তাহীনতা বিশ্বের জাতিসমূহের অধিকারকে লংঘিত করে চলেছে। তাদের উপর অপূরণীয় দুঃখ ও ক্ষয়ক্ষতি আরোপ করেছে। এগুলোর মূল কারণ কি, এগুলোর সমাধানের উপায় কি?

বিশ্বের এ গুরুত্বপূর্ণ অধিবেশনে ইরানি প্রেসিডেন্ট যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক নীতির সমালোচনা করে বলেন : জার্মানীতে ২৬৮টি মার্কিন ঘাটি এবং বিশ্বের অন্যান্য দেশে শত শত ঘাটি স্থাপন কি সামরিক আগ্রাসন ছাড়া অন্য কোন অর্থ রাখে?

তিনি বলেন : বিশ্বের শক্তিধরদের নিকট শুধুমাত্র শক্তি ও সম্পদ হচ্ছে গুরুত্ববহ। তাদের নিকট দূর্বল দেশগুলোর আশার কোন গুরুত্ব নেই। তারা বিশ্বাস করে যে, অন্যকে হেয়-প্রতিপন্ন করার মধ্যে তাদের সম্মান নিহীত। আর এ কারণে তারা অন্যান্য জাতির অধিকার লঙ্ঘন করে থাকে। অস্ত্রের জোরে নিজেকে বিশ্বের হোতা (যে সকল কাজ করতে পারে) হিসেবে আরোপ করে এবং নিজেদের নীতিকে বিশ্বের উপর আরোপ করতে চায়। বিভিন্ন দেশে হস্তক্ষেপের মাধ্যমে তাদের সম্পদকে লুট করে নিয়ে যায়। অনিরাপদ পরিবেশ সৃষ্টির মাধ্যমে নিজেদের স্থান মজবুত করার সুযোগ নেয়। তারা নিজেদের উদ্দেশ্যে পূরণে প্রতারণা, মাদক দ্রব্যের প্রচার এবং মানুষ হত্যাকে বৈধ বলে মনে করে।

ড. আহমাদি নেজাদ বলেন : কারা বিগত কয়েক শতাব্দীতে ধরে দাস প্রথার কালো অধ্যায় রচনা করে আফ্রিকা হতে লক্ষ লক্ষ মানুষকে অপহরণ করেছে? গত চার শতাব্দী ধরে কারা প্রতিভাবানদেরকে ধ্বংস করার মত জঘন্য বিষয় বিশ্বের উপর আরো করেছে? প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের নেপথ্যে কারা জড়িত? কারা প্রতারণার মাধ্যমে ফিলিস্তিন ও মধ্যপ্রাচ্যের উপর জায়নবাদীদেরকে চাপিয়ে দিয়েছে? কারা স্বৈরাচারী সরকারগুলোকে বিভিন্ন দেশসমূহের উপর আরোপ করে স্বৈরাচারী সরকারগুলোর সাথে সুসম্পর্ক বজায় রেখেছে? কাদের নিকট পারমাণবিক বোমা রয়েছে এবং কারা হাজার হাজার পারমাণবিক ওয়ারহেড গুদামজাত করে রেখেছে? ইরানের উপর হামলায় কারা সাদ্দামকে অস্ত্র দিয়েছিল? কারা ১১ই সেপ্টেম্বরের সন্দেহজনক ঘটনার বাহানায় ইরাক এবং আফগানিস্তানের উপর আগ্রাসন চালিয়েছে?

বিশ্বের অধিকাংশ দেশ ও জাতি এ ঘটনার সাথে জড়িত নয় বরং তারা ছিল এর বলি এবং তারা ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতিরও সম্মুখীন হয়েছে –এ কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন : দিনের আলোর ন্যায় এটা স্পষ্ট যে, উপনিবেশিকগণ, প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্ব যুদ্ধ এবং তার পরবর্তী সময় হতে আজ অবধি সকল অরাজকতার মূল হোতাগণ চেহারা পরিবর্তন করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা বিভাগ এবং বিশ্বের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক কেন্দ্রসমূহের উপর কর্তৃত্ব অর্জন করেছে।

ইরানি প্রেসিডেন্ট জাতিসংঘের প্রধান ও অধিবেশনে উপস্থিতদের উদ্দেশ্যে বলেন : এদের কি এখনো (বিশ্ব) পরিচালনার যোগ্যতা রয়েছে? তারা কি এটাকে ধরে নিয়েছে যে, তারা গণতন্ত্র ও মানব অধিকার প্রতিরক্ষার একমাত্র দাবীদ্বার এবং এ দাবীদ্বার হয়েই তারা হত্যাযজ্ঞ চালাবে?

ড. আহমাদি নেজাদ সন্ত্রাসবাদের মোকাবেলায় যুক্তরাষ্ট্রের নীতির সমালোচনা করে বলেন : ১১ই সেপ্টেম্বরের ঘটনার প্রথম সারীর অভিযুক্তের লাশ কেন সমুদ্রে ফেলে দেয়া হল? তার বিচারকার্য কি প্রকাশ্য আদালতে করা উচিত ছিল না?

তিনি বলেন : এ দশককে ‘যৌথ ব্যবস্থাপনা’র দশক হিসেবে নামকরণ করতে হবে। প্রকৃত স্বাধীনতা ন্যায়বিচার, সম্মান, জনকল্যাণ, নিরাপত্তা, সহযোগিতা এবং স্বতন্ত্রতার মাধ্যমে অর্জিত হয়। জাতিসংঘের স্ব স্থান হতে নীচে নেমে একটি স্বল্পমূল্যের জিনিসে পরিবর্তিত হওয়া উচিত নয়। বরং সঠিক ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে সন্ধী, স্বাধীনতা এবং ন্যায়বিচারকে প্রতিষ্ঠা করা উচিত। আর এ কাজের জন্য সকলের সহযোগিতায় যৌথ ব্যবস্থাপনা বৈ আর কোন রাস্তা খোলা নেই। বিশ্বকে যৌথ ব্যবস্থাপনায় পরিচালনা করা সকল জাতির ন্যায্য অধিকার। আমাদের উচিত এ বিষয়ের প্রতিরক্ষা করা; যদিও বিশ্বের কিছু কিছু পরাশক্তি আমাদেরকে এ বিষয়ে নিরাশ করতে চাইবে।

ড. মাহমুদ আহমাদি নেজাদ পূনরায় মানবজাতির ত্রাণকর্তা ও পরিপূর্ণ মানব হিসেব ইমাম মাহদী (আ. ফা.) এর নাম উল্লেখ করে বলেন : মানবতার স্বচ্ছ ভবিষ্যতে আমাদেরকে পৌঁছুতে হবে, যা ইমাম মাহদী (আ. ফা.) এর নেতৃত্বে অচিরেই প্রতিষ্ঠিত হবে। পরিপূর্ণ মানবের আবির্ভাব –যার প্রতি সকল মানুষের প্রকৃত ভালবাসা রয়েছে- মহান আল্লাহর নিশ্চিত প্রতিশ্রুতি। তিনি হযরত ঈসা মসীহ (আ.) এর সহযোগিতায় বিশ্বের স্বাধীনতাকামীদের সম্মুখে দাঁড়িয়ে অত্যাচার ও বৈষম্যতাকে সমূলে উত্পাটন করবেন; জ্ঞান, সন্ধী, স্বাধীনতা ও ভালবাসাকে পৃথিবীতে ছড়িয়ে দেবেন এবং মানব জাতিকে জীবনের সুমিষ্ট স্বাদ দান করবেন।

তিনি বলেন : আজ জাতিসমূহের সুপ্ত প্রকৃতি জাগ্রত হয়েছে, তারা অত্যাচারকে আর সহ্য করবে না। বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে ব্যাপক জাগরণ দেখতে পাচ্ছি। প্রতিদিন ন্যায়বিচারকামীদের দল ভারী হচ্ছে। এভাবেই পথ আরো প্রশস্ত হবে। ইরানের বৃহ জাতি এ পথে চলার জন্য অন্যান্য জাতির হাতে হাত মিলাতে প্রস্তুত।

ড. আহমাদি নেজাদ তার বক্তব্যকে এভাবে শেষ করেন যে, ‘সালাম হোক ভালবাসা ও স্বাধীনতার উপর, সালাম হোক মানব জাতির আলোকিত ভবিষ্যতের প্রতি’।

বলাবাহুল্য, যখন ড. মাহমুদ আহমাদি নেজাদ বিশ্ব সাম্রাজ্যবাদ ও জায়নবাদীদের সমর্থনের নিন্দায় কথা বলতে শুরু করেন তখন বেশ কয়েকটি দেশের প্রতিনিধি জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের সভা ত্যাগ করে এ বিষয়টি স্পষ্ট করে দেন যে, পশ্চিমা সরকারগুলোর মাঝেও জায়নবাদীদের প্রভাব রয়েছে।#

 



পাঠকের মতামত

- this speech proved he can lead the world.


- ধন্যবাদ জনাব আহমাদিনেজাদ। মুসলিম বিশ্বে বুদ্ধিমত্তার সাথে রাষ্ট্র চালাচ্ছে কেবল ইরান আর তুরস্ক।আমরা চাই এই লাইনটি আরো লম্বা হোক ছোট না হয়ে।বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তে যেমন বাংলাদেশে ইহুদি খ্রিষ্টানদের দোসর মুসলিম নামধারীদের হাত থেকে জনগনকে বাচাতে ইরানের শক্তি ও কৌশল চাই।
০১৬৭৬৩৭৫০৮০



ই-মেইল:
নাম:
মতামত:
Enter security code
erfan
ABNA World Service
Englishالعربية
Françaisاردو
Españolفارسی
Русский中文
DeutschTürkçe
Azeri (cyr) Azeri (ltin)
Melayu Indonesia
বাংলা हिन्दी
Swahili Myanmar
BosanskiABP sites
  সর্বশেষ সংবাদ