আগ্রাসী ওয়াহাবী মুফতি’র পরিবর্তে কাঠগড়ায় শিয়া আলেম!
কোড: 312209 তারিখ: 2012/04/30 - 23:02সূত্র: আবনাprint

ইন্দোনেশিয়ান সরকারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ;
আগ্রাসী ওয়াহাবী মুফতি’র পরিবর্তে কাঠগড়ায় শিয়া আলেম!

ইন্দোনেশিয়ার ‘সহিংস ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজ বিষয়ক কমিশনে’র সুরাবায়া শাখা এদেশের কর্মকর্তাদেরকে সাম্পাঙ্গ অঞ্চলের সংখ্যালঘু শিয়াদের উপর চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে উগ্র ওয়াহাবীদের সহযোগিতার বিষয়ে অভিযুক্ত করেছে। যে অভিযোগের সত্যতা ‘শেইখ তাজুল মুলুকে’র বিচারের জন্য গঠিত আদালত হতেই প্রমাণিত হচ্ছে; কেননা ইন্দোনেশিয়া সরকার হামলাকারী ও শিয়াদের সম্পদ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে আদালত গঠন না করে উল্টো শিয়া আলেমের উপর মিথ্যা ও অযাচিত অপবাদ দিয়ে আইন ব্যবস্থা নিচ্ছে। 

 আগ্রাসী ওয়াহাবী মুফতি’র পরিবর্তে কাঠগড়ায় শিয়া আলেম!

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : যখন সকলে ইন্দোনেশিয়ার সাম্পাঙ্গ অঞ্চলে শিয়াদের উপর নৃশংস হামলার ঘটনার বিচারের অপেক্ষায় ছিল তখন শিয়া আলেম শেইখ তাজুল মুলুকে’র বিরুদ্ধে গঠিত আদালতের প্রথম শুনানি অনুষ্ঠিত হয়েছে!

এ সভায় তাকে বিভ্রান্তকর বিভিন্ন বিষয় প্রচার ও ইসলামি নিদর্শনের প্রতি অবমাননার অভিযোগে অভিযুক্ত করা হয় এবং তার বিরুদ্ধে আনীত এ অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ার ক্ষেত্রে তাকে ৫ বছর কারাদণ্ড দেওয়া হবে।

বিরোধী আইনজীবি তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগ এভাবে বর্ণনা করেছেন যে, তাজুল মুলুক তার ছাত্রদেরকে বলেছেন, যে কুরআন শরিফ বর্তমানে আমাদের নিকট রয়েছে তা মহানবী (স.) এর যুগের কুরআন শরিফ নয় এবং এতে পরিবর্তন সাধিত হয়েছে।

বাদী পক্ষের আইনজীবি সুসিপটু বলেন : তাজুল মুলুক দাবী করেছেন যে, “মূল কুরআন ইমাম মাহদী (আ.) এর নিকটে রয়েছে”।

অথচ সকলের এ বিষয়টি জানা যে, কুরআনে পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের বিষয়টি আহলে বাইত (আ.) এর মাযহাবের উলামাদের পক্ষ হতে নাকচ করা হয়েছে এবং সারা বিশ্বের শিয়াদের মসজিদ ও বাসগৃহসমূহে বিদ্যমান কুরআন শরিফ এ দাবী’র জ্বলন্ত প্রমাণ যে, শিয়াদের মতে বর্তমানে’র কুরআন শরিফই মহানবী (স.) এর যুগের কুরআন শরিফ এবং এতে কোন পরিবর্তন বা পরিবর্ধন আনা হয়নি।

আর শিয়াদের আকিদা মতে যা কিছু ইমাম মাহদী (আ.) এর নিকট রয়েছে তা হচ্ছে ‘মুসাহাফে ফাতিমা সালামুল্লাহি আলাইহা’ নামক একটি গ্রন্থ।

কিন্তু এত ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণের পর ইসলাম ও আহলে বাইত (আ.) এর শত্রুরা সর্বদা এ ধরণের অন্যায় অপবাদ আরোপের মাধ্যমে আহলে বাইত (আ.) এর অনুসারীদেরকে কাফের আখ্যায়িত করে।

ধর্ম বিষয়ক আদালতের বিচারক ‘পূর্নুমু আমিন কাহিও’ আদালতের পরবর্তী সভা আগামী মঙ্গলবার অনুষ্ঠিত হবে –এ কথা ঘোষণা করে বলেন : শেইখ তাজুল মুলুক ঐ সভায় তার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের বিপক্ষে নিজের দলীল-প্রমাণ দাঁড় করাবেন।

আদালতে শুনানি শেষে শেইখ তাজুল মুলুক –যার জন্য কোন আইনজীবি নির্ধারিত হয়নি- কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে হাজতে নিয়ে যাওয়া হয়। সম্ভাব্য সকল প্রকার সংঘর্ষ এড়াতে ও নিরাপত্তা জোরদার করতে পুলিশ বাহিনী’র ১৫০ জন সদস্যকে আদালতের চারপাশে মোতায়েন করা হয়।

স্থানীয় পুলিশের ভাষ্যমতে, শেইখ তাজুল মুলুকের শিক্ষা অত্র অঞ্চলের অধিকাংশ মুসলমানকে উস্কে দিচ্ছে, এ কারণেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে বলা হচ্ছে।

বলাবাহুল্য, গত বছরের মহররম মাসে স্থানীয় শিয়া আলেম শেইখ তাজুল মুলুকসহ ১০ জন শিয়া মুসলিম, ২৯শে ডিসেম্বর ২০১১ উগ্র ওয়াহাবীদের কর্তৃক তাদের বাড়ীতে অগ্নিসংযোগের পর তারা তাদের বাসস্থান ত্যাগে বাধ্য হন।

ইন্দোনেশিয়ার ‘সহিংস ঘটনায় নিহত ও নিখোঁজ বিষয়ক কমিশনে’র সুরাবায়া শাখা এদেশের কর্মকর্তাদেরকে সাম্পাঙ্গ অঞ্চলের সংখ্যালঘু শিয়াদের উপর চাপ প্রয়োগের ক্ষেত্রে উগ্র ওয়াহাবীদের সহযোগিতার বিষয়ে অভিযুক্ত করেছে। যে অভিযোগের সত্যতা ‘শেইখ তাজুল মুলুকে’র বিচারের জন্য গঠিত আদালত হতেই প্রমাণিত হচ্ছে; কেননা ইন্দোনেশিয়া সরকার হামলাকারী ও শিয়াদের সম্পদ ধ্বংসকারীদের বিরুদ্ধে আদালত গঠন না করে উল্টো শিয়া আলেমের উপর মিথ্যা ও অযাচিত অপবাদ দিয়ে আইন ব্যবস্থা নিচ্ছে।#

 




ই-মেইল:
নাম:
মতামত:
Enter security code
erfan
ABNA World Service
Englishالعربية
Françaisاردو
Españolفارسی
Русский中文
DeutschTürkçe
Azeri (cyr) Azeri (ltin)
Melayu Indonesia
বাংলা हिन्दी
Swahili Myanmar
BosanskiABP sites
  সর্বশেষ সংবাদ