হিজবুল্লাহ’র শিয়ারা সর্বদা মুসলিম উম্মাহ’র পৃষ্ঠপোষক : হাসান নাসরুল্লাহ
কোড: 322950 তারিখ: 2012/06/17 - 23:15সূত্র: আবনাprint

সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ’র সাক্ষাতকার (পর্ব-১)
হিজবুল্লাহ’র শিয়ারা সর্বদা মুসলিম উম্মাহ’র পৃষ্ঠপোষক : হাসান নাসরুল্লাহ

সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ বলেছেন : হিজবুল্লাহ একটি ইসলাম সংগঠন এবং এর সদস্যরা ইসলাম ধর্মের আইন মানতে বাধ্য। হিজবুল্লাহ এমন একটি জনগোষ্ঠী দ্বারা গঠিত যারা আহলে বাইত (আ.) এর মাযহাবের প্রতি আকিদা পোষণ করে এবং শিয়া। কিন্তু এ মুভমেন্টের তত্পরতা মুসলমান ও খ্রিষ্টান নির্বিশেষে লেবাননের সকল জনগণের জন্য। 

 হিজবুল্লাহ’র শিয়ারা সর্বদা মুসলিম উম্মাহ’র পৃষ্ঠপোষক : হাসান নাসরুল্লাহ

আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : হিজবুল্লাহ প্রধান সৈয়দ হাসান নাসরুল্লাহ ইরানের চার নাম্বার চ্যানেল হতে প্রচারিত ‘ফারাসু’ অনুষ্ঠানকে একান্ত সাক্ষাতকার প্রদান করেছেন। সাক্ষাতকারটি তা গত বৃহস্পতিবার (১৪ই জুন) ইরানের ঐ চ্যানেল হতে প্রচারিত হয়েছে। সাক্ষাতকারে তিনি লেবাননের অভ্যন্তরিন বিভিন্ন বিষয়সহ মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করেছেন। দীর্ঘ এ সাক্ষাতকারকে আমরা মোট ৪টি পর্বে আবনা পাঠকদের জন্য উপস্থাপন করবো। আগামীতে যা কিছু আসছে তা উক্ত সাক্ষাতকারের প্রথম পর্ব।

 

প্রশ্ন : বর্তমান পরিস্থিতিতে হিজবুল্লাহ’র দায়িত্ব কী, পূর্বের দায়িত্বের কি কোন পরিবর্তন এসেছে?

নাসরুল্লাহ : সম্প্রতিকালে হিজবুল্লাহ’র প্রকৃত কর্মপন্থায় কোন পরিবর্তন আসেনি। হিজবুল্লাহ ১৯৮২ সালে লেবানন দখল রোধ করতে এবং দখলদারদের মোকাবেলার উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠিত হয়। আর ঐ বছর হতেই হিজবুল্লাহ, ইসরাইল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের মুখোমুখি যারা মধ্যপ্রাচ্যে আধিপত্য লাভ করতে চায়।

২০০০ সালের পর হতে সরাসরি দখলদারদের মুখোমুখি হয়ে তাদেরকে বের করে দিতে সক্ষম হই। কিন্তু বর্তমানেও লেবানন হুমকির সম্মুখীন। জায়নবাদী ইসরাইল ফিলিস্তিন দখল করে রেখেছে এবং এ অঞ্চলে আধিপত্য প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে চেষ্টা চালাচ্ছে। যদি রাজনৈতিক পরিস্থিতির পরিবর্তন ঘটে তবে আমরাও আমাদের প্রতিরোধের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনতে পারি, কিন্তু এর মূল স্বকীয়তা বজায় থাকবে।

 

প্রশ্ন : যদিও জায়নবাদী ইসরাইলের লেবাননের মাটিতে নেই, তা সত্ত্বেও কি হিজবুল্লাহ নিজের পথ অব্যাহত রাখবে?

নাসরুল্লাহ : জায়নবাদী ইসরাইল প্রতিদিনই লেবাননকে যুদ্ধের হুমকি দেয় এবং প্রতিদিন তারা তাদের পানির প্রয়োজন মেটাতে লেবাননের পানির বিষয়ে আলোচনা করে, তাই আমাদেরকে অবশ্যই প্রতিদিন প্রস্তুত থাকতে হবে। বিন্‌ত জুবাইল অঞ্চলে শান্তি প্রতিষ্ঠার মূল কারণ হচ্ছে প্রতিরোধ আন্দোলন, কেননা (প্রতিরোধের কারণেই) শত্রুরা এ অঞ্চলে হামলা করতে পারে না। বর্তমানে লেবাননে যুদ্ধ অভিযানের সম্ভাবনা না থাকলেও হিজবুল্লাহ এর মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

 

প্রশ্ন : যেভাবে দাবী তোলা হয়, তার ভিত্তিতে কি হিজবুল্লাহ শিয়াপন্থী একটি দল?

নাসরুল্লাহ : হিজবুল্লাহ একটি ইসলাম সংগঠন এবং এর সদস্যরা ইসলাম ধর্মের আইন মানতে বাধ্য। হিজবুল্লাহ এমন একটি জনগোষ্ঠী দ্বারা গঠিত যারা আহলে বাইত (আ.) এর মাযহাবের প্রতি আকিদা পোষণ করে এবং শিয়া। কিন্তু এ মুভমেন্টের তত্পরতা মুসলমান ও খ্রিষ্টান নির্বিশেষে লেবাননের সকল জনগণের জন্য। হিজবুল্লাহ এ অঞ্চলের সকল উম্মত ও জাতীর পক্ষে। এ অভিযোগ একটি অন্যায্য অপবাদ, কেননা হিজবুল্লাহ নিজের ইতিহাসে মুসলিম উম্মাহর এক পৃষ্ঠপোষক।

 

প্রশ্ন : খ্রিষ্টান ও অন্যান্য ধর্ম নির্বিশেষে লেবাননের সকল জনগণ কি হিজবুল্লাহ’র অভিযানসমূহে অংশগ্রহণ করতে পারে, নাকি হিজবুল্লাহ’তে তত্পরতার অধিকার তাদের নেই?

নাসরুল্লাহ : লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী একটি সংগঠন। হিজবুল্লাহ সংগঠন অভ্যন্তরে শিয়া মাযহাবের অনুসারী ব্যতীত অন্য কেউ নেই; কেননা এ দলটি একটি আকিদা ভিত্তিক দল। হিজবুল্লাহ পরিচালনার ক্ষেত্রে এ আইন প্রণয়ন করা হয়েছে যে, এর সকল সদস্য হবে শিয়া মাযহাবের অনুসারী। কিন্তু অনেক সংগঠন রয়েছে যাদের সাথে হিজবুল্লাহ’র সহযোগিতা রয়েছে। ইসরাইল যে আমাদের শত্রু এ বিষয়ে ঐকমত্যে পৌঁছানোর বিষয়ে বিভিন্ন সংগঠন রয়েছে, তাদের সাথে আমরা এক বাঙ্কারে অবস্থান করি।

 

প্রশ্ন : হিজবুল্লাহ কিসের প্রতীক এবং কিসের প্রতিনিধি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হতে চায়?

নাসরুল্লাহ : হিজবুল্লাহ চায় লেবাননের সকল জনগণ, সকল শিয়া, মুসলমান এবং সকল মুক্তিকামীদের প্রতিনিধিত্ব করতে। হিজবুল্লাহ চায় একটি ইসলামি মুভমেন্টের উত্তম প্রতীক উপস্থান করতে।...

 

প্রশ্ন : হিজবুল্লাহ লেবাননে বিভিন্ন সামাজিক ও নির্মাণ বিষয়ক কর্মকাণ্ড চালায়, এর অর্থ কি এটা নয় যে, লেবাননের সরকারের মাঝে আরো একটি সরকার গঠন করতে চায়, এর অর্থ কি সরকারের মুখোমুখি অবস্থান নেওয়া নয়?

নাসরুল্লাহ : অন্যান্য দেশ অপেক্ষা লেবাননের পরিস্থিতি সম্পূর্ণ আলাদা। (যে কোন সংগঠন) সামরিক তত্পরতা ছাড়া অন্যান্য সকল ক্ষেত্রে বৈধভাবে তত্পরতা চালাতে পারে এবং সামাজিক কর্মকাণ্ড চালাতে পারে। এর কারণ হচ্ছে এদেশে বিভিন্ন সম্প্রদায় বসবাস করে। আর অপর কারণটি হল সরকার এ সকল কর্মকাণ্ডের সবকিছুই আঞ্জাম দেয় না। সুতরাং এ বিষয়টি শুধুমাত্র হিজবুল্লাহ’র জন্য নয়। ঘটনাক্রমে হিজবুল্লাহ একটু বিলম্বে এ কাজ শুরু করেছে। আমাদের সামরিক শক্তি লেবাননের অভ্যন্তরিন বিষয়ে হস্তক্ষেপ করে না এবং কখনই লেবাননের সামরিক ও নিরাপত্তা বাহিনী’র মোকাবেলায় দাঁড়ায় না। দক্ষিন লেবাননে অস্ত্র হাতে কাউকে দেখতে পাবেন না, কেননা হিজবুল্লাহ’র সৈন্যরা সর্বদা গোপন থাকে এবং যতক্ষণ না জায়নবাদী ইসরাইল আক্রমন করে ততক্ষণ হিজবুল্লাহ নিজের সৈন্যদেরকে প্রকাশ্যে আনে না।

 

প্রশ্ন : লেবাননে জাতি-সরকার গঠনের বিষয়টি সমস্যার সৃষ্টি করে না?

নাসরুল্লাহ : সমস্যা হচ্ছে এখানে যে, মোকাভেমাহ (প্রতিরোধ আন্দোলন) বিদ্যমান ঘাটতি পূরণের চেষ্টা চালায়। ১৯৮২ সালে হিজবুল্লাহ গঠনের পর আমরা সরকারের নিকট এ দাবী জানিয়েছিলাম যাতে সরকার নিজের দায়িত্ব পালন করে এবং দেশ রক্ষার্থে সোচ্চার হয়। কিন্তু সরকার এ কাজ করেনি। অতঃপর জনগণের একটি অংশ সশস্ত্র হয়ে এ কাজ সম্পন্ন করেছে।

 

প্রশ্ন : যদি কখনো হিজবুল্লাহ’র স্বার্থ, লেবাননের সরকার ও জাতীর স্বার্থের সাথে সাংঘর্ষিক হয় তখন কোনটিকে প্রাধান্য দেবেন?

নাসরুল্লাহ : আমরা সর্বদা জাতীয় স্বার্থকে নিজেদের স্বার্থের উপর প্রাধান্য দিয়ে থাকি, বিগত ৩০ বছরেও এমনটি ছিল।

 

প্রশ্ন : বিদ্যমান সকল সমস্যার পরও কি লেবানন সরকারকে সমর্থন করেন?

নাসরুল্লাহ : সরকারের শাসন একটি দেশের স্থিতিশীল হওয়ার কারণ স্বরূপ, বর্তমান সরকার ফেতনা সৃষ্টির বাধা স্বরূপ এবং স্থিতিশীলতা ও নিরাপত্তা রক্ষায় সচেষ্ট। অন্য সরকার এ কাজ করতে সক্ষম নয়। অবশ্য সিরিয়ার বিষয়ে বর্তমানের সরকারের মাঝে মতদ্বৈততা রয়েছে এবং তা সত্ত্বেও আমরা এর প্রতি সমর্থন জানাই।#
 




ই-মেইল:
নাম:
মতামত:
Enter security code
erfan
ABNA World Service
Englishالعربية
Françaisاردو
Españolفارسی
Русский中文
DeutschTürkçe
Azeri (cyr) Azeri (ltin)
Melayu Indonesia
বাংলা हिन्दी
Swahili Myanmar
BosanskiABP sites
  সর্বশেষ সংবাদ