| কোড: 328740 | তারিখ: 2012/07/12 - 23:39 | সূত্র: প্রেসটিভি | print |
স্বৈরাচারী সৌদি সরকারের বিরুদ্ধে শিয়াদের বিক্ষোভ অব্যাহত |
আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : গত রবিবার হতে এ পর্যন্ত সৌদি আরবের পূর্ব অঞ্চলীয় শহরসমূহের জনগণ ব্যাপক বিক্ষোভ প্রদর্শন করেছে। এ অঞ্চলের জনগণ আয়াতুল্লাহ শেইখ আল-নেমেরে’র গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন করছে। গত শনিবার সৌদি আরবের গোয়েন্দা বাহিনী আয়াতুল্লাহ শেইখ নেমেরকে উদ্দেশ্য করে গুলি চালিয়ে তাকে আহত করে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়।
আয়াতুল্লাহ শেইখ নেমের সৌদি আরবের আল-আওয়ামিয়া অঞ্চলের একজন প্রখ্যাত শিয়া আলেম ও সৌদি রাজতন্ত্রের একজন প্রকাশ্য সমালোচক। আর স্বৈরাচারী সরকার বিরোধী জ্বালাময়ী বক্তব্য ও মন্তব্যের জন্য তিনি প্রসিদ্ধ।
তিনি ২০০৬ সালেও একবার আলে সৌদে’র গোপন বাহিনী কর্তৃক গ্রেপ্তার হন এবং গোয়েন্দা বিভাগের সদস্যের হাতে ব্যাপক নির্যাতনের শিকার হন।
২০০৯ সালে তিনি স্বৈরাচারী আলে সৌদকে সতর্ক করে বলেছিলেন যে, যদি সৌদি আরবের শিয়াদের অধিকারের প্রদান না করা হয়, তবে পূর্ব অঞ্চলকে সৌদি আরব হতে পৃথক করে দিতে হবে। আর তার এ মন্তব্যের কারণে তাকে গ্রেপ্তারের নির্দেশ জারী করা হয় এবং ঐ সময় শেইখ নেমেরসহ ৩৫ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়।
সৌদি আরবের পূর্ব অঞ্চলীয় শহরসমূহে ২০১২ সালে গণবিক্ষোভ শুরু হওয়ার পর আয়াতুল্লাহ শেইখ আল-নেমের শিয়া বিক্ষোভকারদেরকে, সৌদি পুলিশের গুলির বিপরীতে নিজেদের ফরিয়াদের মাধ্যমে দৃঢ়তা প্রদর্শন করে সহিংসতা হতে দূরে থাকার জন্য আহবান জানান। তিনি ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলেন যে, যদি বিক্ষোভকারীদের উপর দমনমূলক আচরণ অব্যাহত থাকে তবে স্বৈরাচারী সৌদি সরকারের পতন ঘটবে।
আয়াতুল্লাহ শেইখ নেমেরে’র আহত ও গ্রেপ্তার হওয়ার প্রতিবাদে সৌদি আরবের আল-কাতিফ ও আল-আওয়ামিয়াসহ পূর্বাঞ্চলীয় বিভিন্ন শহরের জনগণ সড়কে নেমে এসে সরকারের বিরোধী বিক্ষোভে অংশগ্রহণের মাধ্যমে সরকারের বিরুদ্ধে তাদের ক্রোধের বহির্প্রকাশ ঘটায়। জবাবে সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী বিক্ষোভরত জনগণের উপর সহিংস হামলা চালায় এবং তাদের দিকে নির্দিধায় গুলি চালাতে থাকে। ফলশ্রুতিতে নিরাপত্তা বাহিনী’র চালানো গুলিতে ২ যুবক শহীদ এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক আহত হয়। জনগণের উপর সৌদি নিরাপত্তা বাহিনী’র হামলা ও তাদের উপর দমনমূলক আচরণ জনগণের ক্রোধের আগুনকে কয়েক গুনে বাড়িয়ে দিয়েছে। আয়াতুল্লাহ শেইখ নেমেরে’র গ্রেপ্তারের ঘটনার পর হতে এদেশের পূর্ব অঞ্চলের বিভিন্ন শহরে অবিরত বিক্ষোভ চলছে।
আরব বিশ্লেষক জনাব ‘আলী আহমাদ’ এ সম্পর্কে বলেছেন : এ সকল বিক্ষোভ পূর্ব অপেক্ষা বৃহৎ, আর এ হতে প্রমাণিত হয় যে, স্বৈরাচারী আলে সৌদ সরকার পরিস্থিতির নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেছে।
এদিকে বিক্ষোভে নিহত ‘শহীদ আকবার হাসান আল-শাখুরী’র জানাযার আল-আওয়ামিয়া শহরে অনুষ্ঠিত হয়েছে। বিপুল সংখ্যক লোক এতে অংশগ্রহণ করে।
আরব ও পশ্চিমা গণমাধ্যমসমূহ সৌদি আরবে ঘটমান ঘটনাবলী প্রচার হতে বিরত থাকছে। স্বৈরাচারী সৌদি সরকারও এদেশের জনগণের বিক্ষোভের সংবাদ যাতে বিশ্বে প্রচারিত না হয় সে বিষয়ে বাধা প্রদাণ করছে।
স্বৈরাচারী সৌদি সরকার গত বছর হতে এ অবধি দেশের পূর্বাঞ্চলীয় শহরসমূহের গণবিক্ষোভ ঠেকাতে যে কোন প্রকার কৌশলের আশ্রয় নিতে কুণ্ঠা বোধ করেনি। তারা ঘুষ ও বিভিন্ন প্রলোভন দেখানোর মাধ্যমে রাজনৈতিক ও ধর্মীয় ব্যক্তিত্বদের মনজয় করার অপচেষ্টা চালিয়ে, অশান্ত অঞ্চলসমূহের জনগণের উপর অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগ করে এবং বিক্ষোভকারীদের বিরুদ্ধে যুদ্ধে ব্যবহৃত বিভিন্ন অস্ত্রের ব্যবহারের মাধ্যমে জনগণের ন্যায্য দাবী আদায়ের বিক্ষোভের পথে বাধা সৃষ্টি করার অপচেষ্টা চালিয়ে আসছে।
কিন্তু সৌদি আরবের জনগণ সকল চাপকে উপেক্ষা করে স্বৈরাচারী সরকারের বিরুদ্ধে তাদের ন্যায্য অধিকার আদায়ের সংগ্রাম অব্যাহত রেখেছে।
জনাব আলী আহমাদ আরো বলেন : জনগণের বিক্ষোভ অব্যাহত রয়েছে। নিরাপত্তা বাহিনী’র গুলিও তাদের পথে বাঁধা সৃষ্টি করতে পারেনি। অতএব, স্বৈরাচারী সরকারের পতন অবধি এ বিক্ষোভ অব্যাহত থাকবে।#