| কোড: 333973 | তারিখ: 2012/08/03 - 09:54 | সূত্র: ইরনা | print |
সাবেক হিজবুল্লাহ প্রধান হত্যার বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে ইসরাইলি এক দৈনিক |
আহলে বাইত (আ.) বার্তা সংস্থা আবনার রিপোর্ট : সাবেক হিজবুল্লাহ প্রধান সৈয়দ আব্বাস মুসাভী হত্যার দুই দশক পর, জায়নবাদী ইসরাইলের গোয়েন্দা সূত্র তাকে হত্যার ষড়যন্ত্রের বিষয়ে নতুন তথ্য ফাঁস করেছে।
বুধবার প্রকাশিত দৈনিক ইয়াদিউট আহারুনেটের ভাষ্যমতে, এ অভিযানের প্রাথমিক উদ্দেশ্য ছিল হিজবুল্লাহ’র ৩ ব্যক্তিত্বকে অপহরণের লক্ষ্যে তাদের সম্পর্কে বিভিন্ন তথ্য সংগ্রহ করা। কিন্তু শেষ সময়ে সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করে এটাকে একটি পরিপূর্ণ সামরিক অভিযানের রূপ দান করা হয়। আর এ কারণেই এ পদক্ষেপের পরবর্তী ঘটনার জন্য কোন প্রকার প্রস্তুতিই তাদের ছিল না।
দৈনিকটির ঐ প্রতিবেদনে আরো লিখেছে যে, ১৯৯১ সালের আগস্ট মাসে জায়নবাদী ইসরাইলের গোয়েন্দা বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক গুরুত্বপূর্ণ সভা অনুষ্ঠিত হয়। উক্ত সভায় নিখোঁজ ইসরাইলী পাইলট ‘রাওয়ান আরাদে’র বিষয় উত্থাপন ও সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, তাকে বিনিময়ের জন্য হিজবুল্লাহর কিছু কিছু ব্যক্তিত্বকে অপহরণ পূর্বক জিম্মি করা হবে যাতে ঐ পাইলটকে মুক্ত করা যায়। ঐ সভায় হিজবুল্লাহ’র ৩ জন ব্যক্তিত্বের নাম উত্থাপিত হয়, যাদের মাঝে সৈয়দ আব্বাস মুসাভিও ছিলেন।
১৯৯২ সালের ফেব্রুয়ারী মাসে জায়নবাদী ইসরাইলের সামরিক বাহিনী’র গোয়েন্দা বিভাগ গণমাধ্যমসমূহের বরাত দিয়ে জানতে পারে যে, ‘শেইখ রাগেবে’র শাহাদাত বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে যোগ দিতে কয়েকজন সাথীসহ দক্ষিন লেবাননের ‘জাবশিত’ অঞ্চলে উপস্থিত হতে যাচ্ছেন মুসাভী। কিন্তু তারা নির্দিষ্ট দিনটি সম্পর্কে অবগত ছিল না।
জায়নবাদী ইসরাইলি গোয়েন্দা বিভাগের কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে এক সভায় এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় যে, উক্ত অনুষ্ঠানকে একটি অনুশীলন হিসেবে ব্যবহার করা হবে যাতে পরবর্তী কোন অনুষ্ঠানে অপহরণের কাজ অনায়াসে সম্পন্ন করা যায়। উপস্থিতদের কেউই এ চিন্তা করেননি যে, এ বিষয়টি একটি পরিপূর্ণ সামরিক অভিযানের রূপ নিতে পারে।
হিজবুল্লাহ প্রধানের গাড়ী বহর মোট ৩ হতে ৫টি গাড়ী দ্বারা গঠিত হত। আর এটা স্বভাবতই স্পষ্ট ছিল না যে, তিনি কোন গাড়ীতে রয়েছেন।
জায়নবাদী ইসরাইলের বিমান বাহিনী’র গোয়েন্দা বিভাগ কর্তৃক গৃহীত এক সিদ্ধান্তে উক্ত পরিকল্পনাকে একটি সামরিক অভিযান হিসেবে রূপান্তরের প্রতি গুরুত্বারোপ করা হয়। যা ছিল জায়নবাদী গোয়েন্দা সংস্থার উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সিদ্ধান্তের পরিপূর্ণ পরিপন্থী।
এ অভিযানকে বাস্তবায়নের লক্ষ্যে আয়োজিত সভায় তত্কালীন সামরিক অধিদপ্তর প্রধান ‘এহুদ বারাক’ অংশগ্রহণ করে। সভায় অংশগ্রহণকারীরা পক্ষে ও বিপক্ষে মতামত প্রদানের সুযোগ দেওয়া হয়।
ইয়াদিউট আহারুনেটে প্রকাশিত প্রতিবদনে উল্লেখ করা হয়েছে, এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে মতামত প্রদানের যথেষ্ট সাহস এ অভিযানের বিরোধীদের মধ্যে ছিল না।
১৯৯২ সালের ১৬ই ফেব্রুয়ারী (ঘটনার দিন) অভিযানের বিষয়ে আলোচনার কক্ষে, ইসরাইলী গোয়েন্দা বিমান হতে মুসাভী’র গাড়ী বহর হতে তোলা ছবির বিষয়ে আলোচনা করা হয়। ইসরাইলের বিমান বাহিনী যে কোন প্রকার হামলার জন্য প্রস্তুত থাকলেও কর্মকর্তারা এ বিষয়ে নিশ্চিত ছিলেন না যে, এ গাড়ী বহরে জনাব মুসাভী স্বয়ং উপস্থিত আছেন কি না।
জায়নবাদী ইসরাইলের তত্কালীন প্রধানমন্ত্রী ‘ইসহাক শামির’ এ পরিকল্পনা সম্পর্কে ছিলেন বেখবর। অভিযান পরিচালনার দিন তাকে টেলিফোন মারফত এ বিষয়ে অবগত করা হয়।
ঐ দিন বিকাল ৩:৫৫ মিনিটে শামিরকে টেলিফোন মারফত এ অভিযানের খুঁটিনাটি সকল বিষয় সম্পর্কে অবগত করা হয়। অতঃপর তিনি ১ মিনিট চিন্তা করার পর বলেন : মুসাভিকে হত্যা করতে হবে।
বিকাল ৪:১০ মিনিটে জনাব মুসাভিকে রক্ষাকারী গাড়ী বহর ‘তোফাহাতা’ অঞ্চলের কাছাকাছি পৌঁছায়। এ সময় ইসরাইলি বিমান বাহিনী’র একটি বিমান হতে গাড়ী বহরের তৃতীয় গাড়ীকে লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করা হয়। অতঃপর প্রথম গাড়ীটি লক্ষ্য করে, কিন্তু প্রথম গাড়ীটি লক্ষ্যভ্রষ্ট হলে পূনরায় ১ম গাড়ীটিকে লক্ষ্য করে রকেট নিক্ষেপ করা হয় এবং ঐ গাড়ীসহ অন্যান্য গাড়ীও ধ্বংস করা হয়।
বিকাল ৬টায় জানা যায় যে, মুসাভি স্বপরিবারে দ্বিতীয় গাড়ীতে অবস্থান করছিলেন; অবশেষে রাত আট টায় প্রচারিত সংবাদে ‘মুশিয়াহ আরিন্য’ মুসাভি’র হত্যার খবর ঘোষণা করেন।
হিজবুল্লাহ, জায়নবাদী ইসরাইলের এহেন পদক্ষেপের জবাবে অধিকৃত উত্তর ফিলিস্তিনে ক্যাটিওশা ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপের মাধ্যমে ব্যাপক হামলা চালায়।
লেবাননের হিজবুল্লাহ বাহিনী’র সাবেক প্রধান ‘সৈয়দ আব্বাস মুসাভী’র হত্যার দীর্ঘ ২০ বছর পর, জায়নবাদী গোয়েন্দা সূত্র এ ষড়যন্ত্রের বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশ করেছে। জায়নবাদী অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, তারা এ পদক্ষেপের পরিণাম সম্পর্কে চিন্তা না করে এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে তাড়াহুড়ো করে ফেলেছিল।#